Blog

কিভাবে সঠিক Web Host বাছাই করবেন: এমন ১৫টি বিষয় সম্পর্কে জানুন

web hosting

ইতিমধ্যে আপনাদের সাথে আলোচনা করেছি যে ওয়েব হোস্টিং এবং ডোমেইন আমাদের জন্যে কতটা জরুরী। কিন্তু ওগুলো ছিলো মৌলিক কিছু ধারণা। আজ আমরা জানবো যে কিভাবে আমরা একটি সঠিক Web Host বাছাই করব।

আসলে একটা Web host বেছে নেয়াটা অনেকটা চ্যালেঞ্জিং বেপার – আর বিশেষভাবে তখন যখন আপনি আপনার প্রথম ওয়েবসাইট শুরু করতে যাচ্ছেন। যখন আপনি আপনার ওয়েবসাইট Hosting করতে যাচ্ছেন তখন আপনাকে অনেক তথ্য বিবেচনায় আনতে হবে। আর এটা খুব সহজ যে, আপনি যেকোনো একটি তথ্য মিস করে যেতে পারেন যা আপনার হোস্টিং প্রভাইডারদের সম্পর্কে আপনার জানার দরকার ছিল।

যাইহোক, আপনি যদি জানেন কোন প্রশ্ন গুলো আপনার করা উচিত, তাহলে কোনো ভয় ছাড়াই আপনি আপনার Web hosting পরিচালনা করতে পারবেন। তাই সঠিক পছন্দ মানেই হচ্ছে আপনি আপনার ওয়েব হোস্টিং কোন প্রভাইডারকে দিয়ে করাচ্ছেন এবং তারা আপনাকে কতটুকু সুবিধা দিচ্ছে।

আজকের এই ব্লগে আমরা আলোচনা করব যে, আপনার সাইট এ কেমন হোস্টিং প্রয়োজন তা কিভাবে নিশ্চিত করবেন। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।

Hosting থেকে আমাদের কি কি চাহিদা থাকা উচিত তা জানা আবশ্যক কেন?

যখন স্টোরেজ, পারফরম্যান্স, বৈশিষ্ট্য এবং দামের এর কথা উঠে তখন বলতে গেলে প্রত্যেক ওয়েবসাইট এর চাহিদা ভিন্ন ভিন্ন। তাই আপনি যদি একটি প্ল্যানিং এর খোঁজে থাকেন তাহলে প্রথমেই আপনার সাইট হোস্টিং এর চাহিদা জেনে নিন।

আপনি যখন জেনে যাবেন আপনার hosting এর জন্যে কোনগুলো প্রয়োজন, তখন আপনার hosting provider এর লিস্ট খুব তাড়াতাড়ি ছোট হয়ে আসবে। এর সাথে আপনার যেন বেশি খরচ না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে পারবেন। কিছু প্রশ্ন যা থেকে আপনি বুঝবেন আপনার কোন ধরনের হোস্টিং দরকারঃ

  • আমার ওয়েবসাইট টি কত বড় এবং আমার কি পরিমাণ স্টোরেজ প্রয়োজন?
  • গড়ে মাসিক কি পরিমাণ ট্রাফিক আমি আশা করছি?
  • আমার হোস্টিং এর বাজেট কত?
  • আমার বর্তমান Website management skill কি? এর সাথে আরো কি কি দরকার পরতে পারে?
  • স্টোর করা ছারাও আমি আর কি কি চাই Hosting provider এর থেকে?

এগুলোর উত্তর বের করার মাধ্যমে আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত হোস্ট বাছাই করতে পারবেন। এরপর আপনি নিচে উল্লেখিত চেকলিস্ট দেখে আপনি বুঝতে পারবেন যে কোন হোস্টিং আপনার সাইট এর সাথে ঠিক ভাবে ম্যাচ হবে।

কিভাবে Web Host বাছাইকরবেন (এমন ১৫টি Checklist)

যখন আপনি hosting provider বাছাই করতে যাচ্ছেন তখন সেখানে অনেক দিক আপনাকে বিবেচনা করতে হবে, এবং প্রথম দিকে আপনাদের কাছে এটা অনেক কষ্টকরও মনে হতে পারে।

এই কারনে আমরা এমন ১৫টি প্রশ্ন লিস্ট করেছি যা আপনাকে সঠিক hosting provider মূল্যায়ন করতে সাহায্য করবেঃ

  • Host’s Server টি কতটা বিশ্বাসযোগ্য?
  • আপনার প্ল্যানটি কি আপনি সহজে আপগ্রেড করতে পারবেন?
  • আপনি কি সহজেই আপনার ডোমেইন এড করতে পারবেন?
  • Sign-Up এবং Renewal Costs এর মধ্যে কি কোনো গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে?
  • হোস্ট এর কি Generous Refund Policy আছে?
  • এটি কি One-Click Installer?
  • আপনার Host কি আপনাকে আপনার ডোমেইন এর জন্যে ই-মেইল Addresses দিচ্ছে?
  • আপনার কি SFTP Access আছে?
  • .htaccess খোঁজা এবং ইডিট করা কতটা কঠিন?
  • কোন E-Commerce বৈশিষ্ট্য গুলো রয়েছে?
  • আপনি কি Control Panel সহজে চালাতে পারছেন এবং সঠিক দিকে পরিচালনা করতে পারছেন?
  • এখানে কি SSL Certificates রয়েছে?
  •  আপনাকে কতদিন পর পর আপনার Subscription Renew করতে হয়?
  • আপনার Web Host কি আপনাকে Easy Site Backups এর সুবিধা দেয়?
  • আপনি কি Quickly Access Support 24/7 টি পান?

এখন চলুন এই প্রশ্ন গুলো সম্পর্কে আরো কিছু ধারণা নেই বিস্তৃত ভাবে, যেনো আপনি সঠিক বিবেচনার মাধ্যমে আপনার hosting provider পছন্দ করে নিতে পারেন।

Host’s Server টি কতটা বিশ্বাসযোগ্য?

কর্মদক্ষতা ও সময় এর উপর নির্ভর করে যে আপনার ওয়েবসাইটটি উপরে যাবে নাকি নিচে যাবে। আপনার ওয়েবসাইট এর কর্মদক্ষতা এর Search Engine Optimization (SEO), Bounce and Conversion rates বৃদ্ধি করবে, এবং তার সাথে আপনার ওয়েবসাইট কতটা বিশ্বাসযোগ্য তাও বুঝিয়ে দিবে। আমরা কিন্তু বানিয়ে বলছি না যে আপনার সার্ভার এর বিশ্বাসযোগ্যতা আপনার ওয়েবসাইট এর Bottom line এ সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

আপনি যেই Provider এর থেকেই হোস্টিং এর সুবিধা নেন না কেন আপনাকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে তারা আপনাকে Uptime guarantee অন্তত ৯৯% দিচ্ছে কিনা। যেমন, DreamHost এ আপনি ১০০% uptime guarantee পেয়ে যাবেন তাদের Terms of Service আনুযায়ী।

আপনার প্ল্যানটি কি আপনি সহজে আপগ্রেড করতে পারবেন?

যদি আপনি সব ধরনের ইলিমেন্ট ব্যবহার করেন আপনার ওয়েবসাইট কে সফল বানানোর জন্যে, এর মানে এটি তাড়াতাড়ি বেড়ে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে। ভাগ্যক্রমে আপনার ট্রাফিক এবং কনভার্সন রেট বাড়ছে, এর মানে আপনাকে আপনার web hosting প্ল্যান আপগ্রেড করতে হবে।

বেশির ভাগ নতুন ওয়েবসাইট গুলো স্বল্প খরচ এর চিন্তা করে Shared হোস্টিং দিয়ে শুরু করে। কিন্তু আপনার অনলাইনে উপস্থিতি যত বাড়বে ততই আপনার Resources, Bandwidth, and Disk space এর প্রয়োজন পরবে আপনার সাইট পরিচালনা করার জন্যে। আর আপনি যদি Virtual Private Server (VPS), Managed WordPress, অথবা Dedicated Hosting plan ব্যবহার করেন তাহলে আপনার কাজ আপনি খুব সুষ্ঠ ভাবে চালিয়ে যেতে পারবেন এবং এগুলো আপনাকে আপগ্রেড এর ও সুবিধা দিবে।

যদি আপনি দেখেন যে কোনো হোস্ট থেকে আপনার আপগ্রেড প্ল্যান পরিবর্তন করা কঠিন হয়ে পরেছে তখন আপনি আপনার সাইট চালু করার কিছুমাস পরে উপযুক্ত প্রোভাইডার এর কাছে মাইগ্রেট হয়ে যেতে পারেন।

আপনি কি সহজেই আপনার ডোমেইন এড করতে পারেন?

আপনার Digital brand যখন বৃদ্ধি পাবে তখন আপনি শুধু আপনার বর্তমান সাইট টি বৃদ্ধি করতে চাবেন না, তার সাথে আরো একটি নতুন সাইট হোক তা ও চাবেন। বিকল্পভাবে যদি বলি সম্ভবত আপনি চাবেন নতুন ডোমেইন সংগ্রহ করতে অথবা Website flipping করতে চাবেন।

যেটাই কারন হোক না কেন, আপনি যদি অধিক ডোমেইন কিনতে চান, তাহলে আগে এটা জানতে হবে আপনার হোস্ট সেটা এড করতে পারবে কিনা এবং পরিচালনা করতে পারবে কিনা। এমন প্রভাইডারই বেঁছে নিন যে কিনা আপনাকে অসংখ্য ডোমেইন ব্যবহার করার সুযোগ দিবে এবং স্টোরেজ শেষ হয়ে যাবার চিন্তাও করা লাগবেনা।

Sign-Up এবং Renewal Costs এর মধ্যে কি কোনো গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে?

সাশ্রয়ী মূল্যের একটি হোস্ট কেনা আমাদের জন্যে খুবই জরুরী। যাইহোক আপনাকে অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন কতে হবে সাইনআপ করার সময়, যেনো আপনি এমন কোন সার্ভার প্ল্যানিং এ না যান যেটা ব্যয়বহুল কিন্তু সে অনুযায়ী সেবা প্রদান করে না। কিছু কোম্পানি আছে যারা অনেক আকর্ষণীয় সাইন আপ অফার দিয়ে থাকে, কিন্তু যখন রিনিউয়াল এর সময় আসে তখন তারা প্রাইজ বাড়িয়ে ফেলে।

অবশ্যই কোনো হোস্ট বেঁছে নেয়ার আগে তাদের প্রাথমিক সাইনআপ খরচ ও রিনিউয়াল এর খরচ টা দেখে নিবেন। এই দুটোর মধ্যেই ব্যবসায়িক কুটনীতি রয়েছে। যেটাইহোক আপনি অবশ্যই চাবেন যে দুটো খরচের মধ্যে সামঞ্জস্যতা থাকুক তাই না। তাই অবশ্যই এটা খেয়াল রাখবেন।

হোস্ট এর কি Generous Refund Policy আছে?

আপনি অবশ্যই চাবেন যে আপনি যেই হোস্ট পছন্দ করবেন সেটা যেনো পারফেক্ট হয় এবং আপনার ওয়েবসাইট টি যেনো প্রসারতা লাভ করে, আর আপনার যেনো এই সার্ভিসটি কখনই ত্যাগ করতে না হয়। কিন্তু আসলে আমরা যেভাবে সব প্ল্যান করি সবসময় তা অত সহজে হয় না।

যদি কোন কারনে আপনাকে আপনার হোস্টিংটি বাদ দিতে হয়, তাহলে আপনি অবশ্যই চাবেন আপনার যেনো কোনো অতিরিক্ত ফি না দিতে হয়। আর এই জন্যে আপনাকে সেই হোস্ট বাছাই করতে হবে যারা কিনা আপনাকে ফ্রি ট্রায়াল এর সেবা দিবে। এতে আপনি বুঝবেন যে হোস্টটি আপনার জন্যে সুবিধাজনক কিনা। এতে আপনার কোন পেনাল্টিরও শিকার হতে হবে না।

এটি কি One-Click Installer?

Content Management Service (CMS) হিসেবে ওয়েব এ WordPress প্রায়ই অতিরিক্ত কিছু সাপোর্ট পেয়ে থাকে হোস্টিং কোম্পানির থেকে। Managed WordPress plans এবং WordPress-related features বিশেষভাবে খুব হেল্পফুল যদি কিনা আপনি এই প্লাটফর্ম ব্যবহার করার জন্যে মনঃস্থির করেছেন।

One-click WordPress installer একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য যেটা বিভিন্ন হোস্ট তাদের কাস্টমারদের দিয়ে থাকে। কিছু হোস্ট আছে যারা আপনাকে ও্যারড প্রেস এর প্রি-ইন্সটল এর সুবিধাও দেয়। এটা আপনার অনেক সময় বাঁচায় যখন আপনি ইনিশিয়াল সেটআপ দেন। আপনি অন্যান্য প্লাটফর্ম এও one-click installers পেয়ে থাকবেন, যেমনঃ Joomla এবং Zen Cart।

আপনার Host কি আপনাকে আপনার ডোমেইন এর জন্যে ই-মেইল Addresses দিচ্ছে?

আপনার যখন একটি বিজনেস সাইট, একটি ব্লগ, একটি ই- কমার্স অথবা অন্য কোন সাইট থাকবে তখন আপনার ভিজিটরসদের সাথে সংযোগে থাকার জন্যে আপনার অবশ্যই একটি ইমেইল address থাকা লাগবে, যা আপনার ডোমেইন এর সাথে সম্পর্কযুক্ত। আর এটি আপনাকে আরো বেশি প্রোফেশনাল লুক দিবে আর আপনার ভিজিটরসদেরও সুবিধা হবে আপনাকে মনে রাখার জন্যে। আর তাই আপনাকে বেঁছে নিতে হবে সেই হোস্ট যারা আপনাকে এই সুবিধা দিয়ে থাকবে। আর আপনি যেই হোস্টিং প্যাকেজটা নিচ্ছেন সেটা যদি কম খরচের হয় তাহলে আপনি ম্যানুয়ালি আপনার কাস্টম email addresses সেটআপ করতে পারবেন না।

আপনার কি সাধারণ SFTP Access আছে?

File Transfer Protocol (FTP) এবং Secure File Transfer Protocol (SFTP), ওয়েবসাইট পরিচালনার জন্যে খুবই অত্যাবশ্যক টুলস। কিছু কিছু জায়গায়, আপনার সাইটকে কাস্টোমাইয করার জন্যে, বিভিন্ন ভুল ঠিক করার জন্যে এবং বিভিন্ন কাজ সুসম্পন্ন করার জন্যে এই টুলসগুলোর যেকোনো একটি আপনাকে ব্যবহার করতে হবে।

আপনার হোস্ট আপনাকে credentials দিচ্ছে কিনা অবশ্যই তা খেয়াল রাখবেন, এতে আপনি একজন client  (FileZilla) এর মাধ্যমে FTP অথবা SFTP ব্যবহার করতে পারবেন। এই তথ্য গুলোকে এমন জায়গায় রাখতে হবে যাতে খুব সহজে যেকোনো সময় এগুলো ব্যবহার করতে পারেন। বাড়তি ভাবে বলতে গেলে, কিছু host রা আপনাকে FTP clientsও দিয়ে থাকে আপনার ব্যবহারের জন্যে। আর এই সুবিধাটা আপনার জন্যে বোনাস হিসেবে কাজ করবে এবং এটা আপনার জন্যে আরো বেশি নিরাপদ হবে, ফলে অন্য কোনো তৃতীয় পার্টির উপর নির্ভর করতে হবে না আপনার।

আপনার হোস্ট সার্ভিস এ .htaccess খোঁজা এবং ইডিট করা কতটা কঠিন?

আপনারা যারা WordPress users, তাদের সাইট এর জন্যে এই .htaccess ফাইলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটাতে প্রচুর পরিমানে কনফিগারেশন এর তথ্য রয়েছে যা আপনার Permalink structure, Caching, 301 redirects, File accessibility বাড়ায়।

কিছু কিছু জায়গায় আপনার হয়ত .htaccess  ইডিট করার প্রয়োজন হতে পারে, যেনো আপনি বিভিন্ন ভুল ঠিক কতে পারেন, সিকিউরিটি কঠোর করতে পারেন অথবা আরো অন্য অনেক কাজ করতে পারেন যা আপনার সাইট কে উন্নত করবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এই .htaccess  ফাইলটি একটি Hidden file তাই এই কাজ গুলো করা এতো সহজ না।

এমনকি আপনি যদি ফাইলটি খুঁজেও পান, তারপরও SFTP দিয়ে এটি ইডিট করা খুবই বিপদজনক। সবচেয়ে বেশি ভালো হয় যদি আপনার হোস্ট প্রোভাইডার আপনাকে একটি ফাইল ম্যানাজার দিয়ে দেয় এটি ইডিট করার জন্যে, এতে আপনার সাইট এর ঝুঁকি কমে যাবে।

কোন E-Commerce বৈশিষ্ট্য গুলো রয়েছে?

আসলে কি সব ওয়েবসাইট এর কিছু মৌলিক চাহিদা রয়েছে। যাইহোক, আপনি যদি একটি e-commerce সাইট চালিয়ে থাকেন, তাহলে আপনার অবশ্যই কিছু এক্সট্রা বৈশিষ্ট্য দরকার। উদাহরণস্বরূপ, আপনার বহুসংখ্যক ব্যাকআপ এবং Content Delivery Network (CDN) দরকার যাতে আপনি সারা বিশ্বে আপনার কাঙ্ক্ষিত কাস্টমারের কাছে পৌছাতে পারেন।

আর একটি বিশেষজ্ঞ হোস্টিং প্ল্যানের মাধ্যমে আপনি আপনার e-commerce সাইটের জন্যে অনেক সুবিধা পেয়ে থাকবেন যা আপনার পণ্যের সাশ্রয়ী মূল্যে দিতে সাহায্য করে।

আপনি কি Control Panel সহজে চালাতে পারছেন এবং সঠিক দিকে পরিচালনা করতে পারছেন?

আপনাকে অবশ্যই আপনার হোস্টিং কন্ট্রোল প্যানাল এ অনেক সময় ব্যয় করতে হবে।সঠিক ভাবে পরিচালনা করতে পারলে আপনার একাউন্ট ম্যানেজ করাটা বেশি একটা কষ্টসাধ্য হবে না।  এমনকি আপনার বিলিং এবং আপগ্রেড এর জন্যে অন্য সাপোর্ট এর উপর নির্ভর করতে হবে না।  যখন আপনি এমন হোস্টিং বেঁছে নিবেন যারা আপনাকে কাস্টম কন্ট্রোল প্যানেল এর সুবিধা দেয়, এতে আপনার অনেক কাজ সহজ হয়ে যাবে এবং এসব নিয়ে আপনার কোনো মাথাব্যাথা ও থাকবেনা। এসব কন্ট্রোল প্যানেল আমাদের clear navigation menus এর সুবিধা দেয় যাতে আমরা আমদের সাইটের তথ্য খুব সহজে বের করতে পারি, সাপোর্ট এর জন্যে যোগযোগ করতে পারি এবং আমাদের সাইট ইডিটও করতে পারি।

এখানে কি SSL Certificates রয়েছে?

আপনার সাইটকে যদি আপনি নিরাপদ রাখতে চান তাহলে Secure Socket Layer (SSL) certificates হচ্ছে আপনার জন্যে অত্যাবশ্যক একটি বিষয়। এটি বিশেষ করে তাদের জন্যে সত্য যারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে ডিল করে, যেমনঃ credit card details, SSL certificates, এবং আরো এমন আরো অনেক কিছু।

আসলে আপনার সাইটে একটি SSL certificate সংযুক্ত করার মানেই হচ্ছে অতিরিক্ত খরচ। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে কিছু হোস্টিং প্রোভাইডার আপনার হোস্টিং প্ল্যান এর সাথে এটি দিয়ে থাকে আর তাতে কোনো অতিরিক্ত খরচও নেই। তাই আমি বলতে পারি যে আপনি যদি SSL certificate যুক্ত হোস্টিং প্ল্যান পছন্দ করেন তাহলে আপনার কিছু টাকা বেচে যাবে আর তার সাথে আপনার সাইটও নিরাপদ থাকলো।

আপনাকে কতদিন পর পর আপনার Subscription Renew করতে হয়?

Subscription Renew  এর ক্ষেত্রে একেক host তাদের Subscription ভিন্ন ভিন্ন সময়ে সেটআপ করে থাকেন। কারোটাতে মাসিক Subscription করতে হয়। আবার কেউ কেউ অনেক লম্বা সময়ের প্ল্যান করে রাখে যেমনঃ তিন বছরের, দু বা এক বছরের। মাসিক প্ল্যানিংটাও খারাপ না, যদি কিনা আপনার ফি টা যথেষ্ট পরিমানে কম হয়। আর বলতে গেলে এসব প্ল্যান বেশির ভাগি বেশি ব্যয়সাপেক্ষ নয়। আবার লম্বা সময়ের জন্যে যেসব প্ল্যান আছে সেগুলোতেও আপনি টাকা বাঁচাতে পারেন যদি আপনি অল্পদিনের হোস্টিং প্ল্যান গুলোর সাথে তুলনা করে দেখেন। তাই আপনি যখন একটি হোস্টিং প্ল্যান ব্যবহার করতে যাবেন অবশ্যই এটি বিবেচনায় রাখবেন।

আর এটা ভুলে যাবেন না যে আপনার ডোমেইনও আপনাকে বাৎসরিক রিনিউ করানো লাগবে। এটা সাধারণত বছরে বছরে রিনিউ করাতে হয়, কিছু আছে আবার দু থেকে তিন বছর পর্যন্ত রিনিউ করা লাগে না যেমনঃ DreamHost এমন একটি। আবার আপনি অটোরিনিউয়াল প্রোগ্রাম এ সাইন আপ করে রাখতে পারেন এতে আপনাকে কষ্ট করে মনে রাখতে হবে না যে আপনার ডোমেইনটি রিনিউ করতে হবে

আপনার Web Host কি আপনাকে Easy Site Backups এর সুবিধা দেয়?

আমরা কেউই চাই না যে আমাদের সাথে কখনো কিছু খারাপ হোক। যাইহোক আমাদের অবশ্যই সবসময় প্রস্তুত থাকা উচিত যেন আমরা যেকোনো পরিস্থিতি কে মানিয়ে নিতে পারি। দুর্ঘটনাতো যেকোনো সময় ঘটতে পারে, আর তা যদি হয় এমন যে আপনার সাইটটি নষ্ট হয়ে গেলো, তখনতো আপনি অবশ্যই চাবেন যে আপনার সাইটটি যেনো আপনি পুনরায় রিস্টোর করতে পারেন।

Backups অপশনটি আপনাকে নিশ্চিত করে যে আপনি আপনার হারানো সাইটটি ফিরে পেতে পারেন। ওয়েবসাইট ব্যাকআপ এর জন্যে অনেক পথই আপনি পাবেন আর অন্যতম সহজ পথ হচ্ছে আপনার ওয়েব হোস্ট। এটা বেশি সুবিধাজনক হয় যদি আপনার হোস্ট আপনাকে One-click on-demand backup এর মাধ্যমে দৈনিক অটমেটেড ব্যাকআপ এর সুবিধা দিয়ে থাকে।

আপনি কি Quickly Access Support 24/7 টি পান?

আপনার সাথে আপনার হোস্টের সম্পর্কটা দীর্ঘ সময়ের জন্যে। আর আপনাকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে আপনি যেই হোস্টকে বেঁছে নিয়েছেন তাদের কি Multiple contact methods এবং 24/7 support team রয়েছে, যাতে আপনার যেকোনো দরকারে কেউ না কেউ থাকবেই আপনাকে সাহায্য করার জন্যে।

যখন একটি ওয়েব হোস্ট বেঁছে নেয়ার সময় আসে তখন যেকোনো হোস্ট সার্ভিস দেখে মুগ্ধহয়ে যাওটা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। আপনাকে অনেক ফ্যাক্টর বিবেচনায় রাখতে হবে। আর আপনার নির্বাচন এর উপর নির্ভর করবে যে আপনার ওয়েবসাইট সাফল্যের মুখ দেখবে নাকি ব্যর্থ হবে। তাই একটি ওয়েব হোস্ট বেঁছে নেয়ার আগে অবশ্যই উল্লেখ্য বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন যাতে আপনি সঠিক ভাবে আপনার ওয়েবসাইট পরিচালনা করতে পারেন।